স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করা যায়, যা মূলত যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীনে হয়; এখানে যৌতুক দাবি করা বা দেওয়া উভয়ই অপরাধ, যার জন্য শাস্তি কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে, তবে এখন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় সরাসরি মামলা নেওয়ার আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার (mediation) বিধান চালু হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, বিয়ের কোনো পক্ষ যৌতুক দাবি করলে বা গ্রহণ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এবং এর ফলে স্বামী বা স্ত্রী উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন, এমনকি তালাকের পরেও।
যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী বিধান:
ধারা ৩ (যৌতুক দাবি): বিয়ের কোনো পক্ষ যদি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অন্য পক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করে, তবে তা অপরাধ। সাজা: ১ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
ধারা ৪ (যৌতুক গ্রহণ/প্রদান): যৌতুক দেওয়া-নেওয়া বা এর জন্য চুক্তি করাও অপরাধ। সাজা: ধারা ৩-এর অনুরূপ।
ধারা ৫ (চুক্তি বাতিল): যৌতুক সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।
স্বামী কর্তৃক মামলা: স্ত্রী বা তার পরিবার যৌতুক দাবি করলে স্বামীও যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা করতে পারেন, এবং স্ত্রী দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী বিধান (যৌতুকের কারণে):
ধারা ১১ (গ): যৌতুকের জন্য শারীরিক বা मानसिक নির্যাতন, বা এর ফলে মৃত্যু ঘটালে বা ঘটানোর চেষ্টা করলে এই ধারা প্রযোজ্য হয়, যার জন্য কঠিন শাস্তি, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।
মামলার পদ্ধতি (সাম্প্রতিক পরিবর্তন):
২০২৫ সালের আইন অনুযায়ী, যৌতুক বা নির্যাতনের মামলায় সরাসরি মামলা করার আগে বাধ্যতামূলক কেস-প্রি মিডিেশন (case-pre mediation) বা মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতার বিধান যুক্ত হয়েছে, যা চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার দ্বারা পরিচালিত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
দেনমোহর (Mahr) যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে বর্তমানে যৌতুক মামলায় দেনমোহরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সংক্ষেপে, যৌতুকের জন্য যে কোনো পক্ষই আইনের আশ্রয় নিতে পারে এবং উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে যৌতুক সংক্রান্ত মামলা করার বিধান রয়েছে, তবে এখন আইনি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
Adv subarna seema
Supreme court of Bangladesh.
সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ